[Life Story] মেয়ে দেখা By SMsudipBD
লেখক: SMsudipBD About 2020s ago |
আমার এক পরিচিত আত্মীয় পাত্রী দেখতে গিয়েছেন কিন্তু পাত্রী পছন্দ হয়নি। তার ভাষ্যমতে, সমস্যা হল পাত্রী
খাটো। সেটা পাত্রীকে জানিয়ে
দেওয়া হল। সে অনেক জায়গায় ঘোরাঘুরি করল অনেক মেয়ে দেখার পর তার মনে হল আগের দেখা মেয়েটি
যাকে সে অপমানের সাথে রিজেক্ট করেছে সেই মেয়েই পারফেক্ট ছিল। পুনরায় সে যখন আবার বিয়ের প্রস্তাব
নিয়ে গেল এবার মেয়ে বেঁকে বসল এবং জানিয়ে দিল প্রথম বার যার কাছে সে অপমানের সাথে রিজেক্টেট হয়েছে তাকে সে কোনমতে বিয়ে করবে না এবং তার সাথে বিয়ে হয়ওনি। কথা হল বেশিরভাগ ছেলেদের কাছে হয়ত এটা কুৎসিত আভিজাত্য সে কতজন মেয়েকে অপমানের সাথে রিজেক্ট করতে পারল, বন্ধু মহলে দাপিয়ে বেড়ানো
যায় এই বলে কোন মেয়েকে সে কিভাবে রিজেক্ট করেছে। জীবন টা শুধু সাহিত্যের রসালো পার্ট নয় সেখানে কষ্টের অধ্যায়ও থাকে সাহিত্যে থাকা মেয়েদের মুখে কোন দাগ থাকে না,মসৃণ ত্বকে তিল থাকে,হাসি দিলে টোল পড়ে,ফুচকা খায়, বৃষ্টিতে ভিজে বাস্তব জীবনের মেয়েগুলোর মুখের দাগ ঢাকতে কড়া মেকাপ দিতে হয় দুঃখিত সবাই কড়া মেকাপ লাগিয়ে দাগ ঢাকে না, তাদের চোখে কাজল দিলে তাই নিয়ে সাহিত্য রচিত হয় না বরং তারা টুপ করে মুছে ফেলে বলে "ধুর ছাই পেত্নীর মত লাগছে"। . শোন মেয়ে "তুমি কোন ফকির মিসকীন নও যে
ফার্মগেটের ওভারব্রিজের উপর ভাঙা থালা নিয়ে ভালোবাসা ভিক্ষা করতে বসেছো।"বোকা মেয়েরা মনে
করে কেউ তাকে দয়া করে বিয়ে করলে সারাজীবন তাকে মায়া দিয়ে আটকে রাখতে পারবে।বোঝা উচিৎ দয়ার ভালোবাসা কোনদিন মায়া
দিয়ে আটকে রাখা যায় না।তোমার স্বামীর সেই দয়ার ভালোবাসা কেবল অন্ধকার রাতেই প্রকাশ পাবে কিন্তু
দিনের আলোতে গালে টোল পড়া, চোখে কাজল দেওয়া মেয়েকে নিয়ে সে কাব্য রচনা করবে।সেই কাব্যের নায়িকা তুমি হবে না। . একটা মেয়ের পোস্ট পড়েছিলাম তাকে বারবার দেখতে এসে জানিয়ে দেওয়া হয় সে সুন্দরী নয়,তার
মা বাবা তাকে কড়া কথা শোনায় তার মরে যেতে ইচ্ছে করে।ব্যক্তি জীবনে পাত্রী হিসেবে আমিও দুই একজনের কাছে রিজেক্টেট হয়ত আরও
হব। মা একবার করুণ চোখে তাকিয়ে বলেছিলেন "তোমাকে হয়ত তাদের পছন্দ না।"নাইন টেনে পড়ুয়া মেয়ে হলে হয়ত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
বলতাম "আমি কেন নিখুঁত সুন্দরী না?"কথা হল আমি কখনও মুখের দাগ ঢাকতে দামী মেকাপ দেইনি,মোটা ভ্রু প্লাগ করে চিকন করিনি,নাক কান ফুটো করেছিলাম সেই কবে, বহুদিন গয়না না দেওয়ায় এখন গয়না দিলে
নাক কান ফুলে টুলে একাকার হয়ে যায়। আমি এসব বলে নিজেকে ছোট করছি না।বাস্তবতা শেখাচ্ছি, আমি
বাস্তবতা বুঝি, প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ থাকবে আমি তাদের সেই
পছন্দকে সম্মান জানাই কিন্তু কাউকে যখন তার ত্রুটি ধরে ধরে রিজেক্ট করা হয় তাকে সরাসরি জানানো হয় তোমার এই সমস্যা ঐ সমস্যা তখন আমারও জানতে ইচ্ছে করে "আপনি কি নিখুঁত? আপনার আদরের বোন সেও জগতের সব পুরুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্ভাগ্যক্রমে(!) কোনদিন মেয়ের বাবা হলে সেও হয়ত নিখুঁত হবে না কিন্তু আপনি কেবল নিখুঁত মেয়ে খোঁজেন,অদ্ভুত না ব্যাপারটা?কাউকে ভালো না লাগলে ছুতো দিয়ে এড়িয়ে যান, কাউকে পছন্দ হলেই ফাইনালি প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া
উচিৎ। দেখার অনেক উপায় আছে।তার জন্য গোষ্ঠীসুদ্ধ গিয়ে তার সৌন্দর্যের ত্রুটি উল্লেখ করে অপমানের সাথে
রিজেক্ট করলে মেয়ের ব্যক্তিত্বে আঘাত লাগা স্বাভাবিক। একমাত্র
উপায় প্রেম সেটা বলছি না।
পড়াশোনা করছেন,শিক্ষিত হচ্ছেন, সার্টিফিকেটও পাবেন।সেই সার্টিফিকেটকে একটু বিবেকের সাগরে ডুবিয়ে আনবেন প্লিজ।আমি আমার খারাপ দিকগুলোর জন্য
নিজেকে যেমন ঘৃণা করি আবার নিজের ভালো গুণের জন্য নিজেকে ভালোওবাসি। বিশ্বাস করি এই জীবনে কেবল আমাকে আমার দরকার। রিজেক্ট হওয়ার কষ্টে মেয়ে তোমার চোখে যদি জল আসে জেনে নিয়ো তুমি ভয়াবহ দুর্বল। তোমাকে ভাঙার জন্য শক্ত কুঠার লাগবে না শক্ত কথাই যথেষ্ঠ। কথা দিয়ে যাকে ভাঙা যায়
কঠিন দুনিয়া তার জন্য নয় . আমি পুরুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে আসিনি কারণ দোষ তো সেইসব মা বাবারও যারা মেয়েকে দয়ার পাত্রী
[IMG]https://smsudipbd.wapkiz.mobi/download/dl4/d9c2c21073148140c25379c9eb2760c1/smsudipbd+wapkiz+mobi/-(smsudipbd.wapkiz.mobi).jpg[/IMG]
বানিয়ে রেখেছেন।বড় মেয়েকে পছন্দ না হলে মেঝোটাকে সাজিয়ে আনা
হয়,মেঝ টা না চললে ছোটটা তবুও দয়া করে একজনকে নিয়ে যাক।অথচ একটু
সুযোগ দিলে, সময় দিলে সেই দয়ার পাত্রীদের মধ্যে হয়ত কেউ হত নামকরা ডাক্তার, দেশ সেরা গবেষক কিংবা
লেখক। অথচ তাদের শেখানো হয় তোমার হাতের চা খেতে কেমন সেটাই তোমার প্রতিভা। আমি চা বানাব,আমি তার জুতোও মুছে দেব সমস্যা নেই কারণ সেটা তার প্রতি
আমার ভালোবাসা,প্রতিভা নয়। পুরুষ আমার প্রতিপক্ষ নয়,পুরুষ মানেই রূপের
পিয়াসী সেটা বলাও উদ্দেশ্য নয়। এসিড দগ্ধ নারীকে, ধর্ষিতা নারীকে, কেউ কেউ বিয়ে করেও সুখে আছে।ডা.মুন্তাহিদ এখনও তার কোমায় চলে যাওয়া লাবণ্যহীন স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করে বসে আছেন।অনেকে
বলতে পারেন তারা এসব মেয়েকে বিয়ে করেছে দয়া করে,সংসার টিকে আছে করুণা দিয়ে তাহলে উল্টো যুক্তি আমিও দেব"কারও উপর দয়া দেখিয়ে করুণা দেখিয়ে বড়জোর তাকে ভিক্ষা
দেওয়া যায় ভালোবাসা নয় এবং কখনও নয়"।
.jpg)
Tag: othersdiscusionlife storyall poemsharelove storylife storywapkiz codetutorial tag codetutorial tag code
পোস্টটি কেমন লেগেছে তা জানাতে একদম ভুলবেন না !
মন্তব্য 0 টি আছে।
Need Login or Sing Up
কোন মন্তব্য নেই।